রাত দুইটা বাজে তখন। চোখদুটো মাত্র ভালমত নেমে আসবে আসবে করছে। এমন সময় বালিশের নিচে রাখা ফোনের ভাইব্রেশনে ঘুম গেল ভেঙ্গে! unsure emoticon কয়েকটা মিসকল আসলো পাঁচ সাত মিনিট অন্তর অন্তর। পরে যখন ডাইরেক্ট ফোন দিল তখন রিসিভ করলাম।
-হ্যালো।কে বলছেন?
: (কোন সাড়াশব্দ নেই)
-হ্যালো?
: (এবারো চুপ)
-হ্যালো!
: (চুপ।কোন কথা নেই)
-আপনার কি দাতে পোকা নাকি মুখে গন্ধ? কথা বলছেন না কেন?
-হ্যালো।কে বলছেন?
: (কোন সাড়াশব্দ নেই)
-হ্যালো?
: (এবারো চুপ)
-হ্যালো!
: (চুপ।কোন কথা নেই)
-আপনার কি দাতে পোকা নাকি মুখে গন্ধ? কথা বলছেন না কেন?
বলেই ফোন রেখে দিলাম।বিশ পচিশ মিনিট পেরিয়ে গেল তারপর। রাত প্রায় পৌনে তিনটার দিকে আবারো ফোন! আবারো রিসিভ করলাম।
-এবার কি দাত মেজে এসেছেন?
:আচ্ছা আপনি কি খুব কিপ্টা? (মেয়ে ভয়েজ unsure emoticon )
-কে আপনি?
:(চুপ)
-হ্যালো?
:জ্বী শুনছি।ভাইয়া আমাকে একটু ব্যাক করেন না প্লিজ! ফোনটা কেটে যাবে।ব্যালেন্স শেষের দিকে।
-ব্যালেন্স শেষ হওয়ার আগেই বলুন কি বলবেন। এই বান্দা জিন্দেগীতেও ফোন ব্যাক করবেনা।
:আপনি আসলেই কিপ্টামিতে নোবেল পাবেন!
-এবার কি দাত মেজে এসেছেন?
:আচ্ছা আপনি কি খুব কিপ্টা? (মেয়ে ভয়েজ unsure emoticon )
-কে আপনি?
:(চুপ)
-হ্যালো?
:জ্বী শুনছি।ভাইয়া আমাকে একটু ব্যাক করেন না প্লিজ! ফোনটা কেটে যাবে।ব্যালেন্স শেষের দিকে।
-ব্যালেন্স শেষ হওয়ার আগেই বলুন কি বলবেন। এই বান্দা জিন্দেগীতেও ফোন ব্যাক করবেনা।
:আপনি আসলেই কিপ্টামিতে নোবেল পাবেন!
বলেই কেটে দিল।কিছুক্ষন পর আবার অন্য নম্বর দিয়ে ফোন!
-হ্যালো?
:ভাইয়া আম্মুর ফোন দিয়ে ফোন দিলাম।
-কেন ফোন দিলেন?
:কেন, খুব অপরাধ করে ফেলেছি মনে হচ্ছে!
-এত রাতে আরেকজনের ঘুম হারাম করা অপরাধের পর্যায়েই পড়ে।আমি কিন্তু এখনো বুঝতে পারছিনা যে আপনি কে? (রেগেই গিয়েছিলাম অনেকটা)
:আপনার কথাবার্তার ধরন শুনে মনে হচ্ছেনা যে আপনিই শুভ।
-(এইবার আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম!) আপনি কে বলুনতো!
:আমি শুভর ফেসবুক ফ্রেন্ড। এটা কি শুভর নাম্বার না?
-হ্যাঁ এটা শুভর নাম্বার। আর আপনি তার সাথেই কথা বলছেন।
:আপনি এত ভাল ভাল পোস্ট লিখেন। কিন্তু কথাবার্তা এরকম কেন?
-আপনি আমার নাম্বার পেয়েছেন কোথায়?
:আপনার আগের আইডিতে একসময় ফোন নম্বর প্রাইভেসী ফ্রেন্ডস অনলি করা ছিল বোধহয়। তখন সেভ করে রেখেছিলাম। আপনার আগের নাম Soukhin Bilas. ভুল বললাম?
-না। কে আপনি?
:খুঁজে বের করেন।
-আমি খুঁজে বের করার পাবলিক না।
:তাহলে জানবারও দরকার নেই।তবুও একটা Hints দিচ্ছি। আপনার বর্তমান আইডিতে আমি আছি।তবে আইডিটি আমার রিয়েল নামে নেই।
-বাবা মায়ের আকীকা করা নামে এত এলার্জি কেন?
:এখন কিন্তু সত্যিই মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে আমার!
-ভাল।আর কিছু বলবেন?
:না।আর হ্যাঁ,আপনি এত মেয়েদের বিরুদ্ধে লিখেন কেন?
-এমন কিছু তো লিখেছি বলে মনে পড়ছেনা!
:এই আইডিতে হয়তো লিখেননি। আগের আইডিতে লিখেছিলেন।
-আর কিছু বলবেন?
:না।আপনাকে বলেও লাভ নেই।
-এতক্ষনে বুঝতে পারার জন্যে ধন্যবাদ।
:(চুপ)
-আর কিছু বলবেন?
:না।আর কিছু বলব না। আপনার ঘুমে সমস্যা করার জন্য sorry.. গুড মর্নিং।
-গুড মর্নিং কেন?
:ভোর হতে বেশী বাকি নেই তাই।
-হ্যালো?
:ভাইয়া আম্মুর ফোন দিয়ে ফোন দিলাম।
-কেন ফোন দিলেন?
:কেন, খুব অপরাধ করে ফেলেছি মনে হচ্ছে!
-এত রাতে আরেকজনের ঘুম হারাম করা অপরাধের পর্যায়েই পড়ে।আমি কিন্তু এখনো বুঝতে পারছিনা যে আপনি কে? (রেগেই গিয়েছিলাম অনেকটা)
:আপনার কথাবার্তার ধরন শুনে মনে হচ্ছেনা যে আপনিই শুভ।
-(এইবার আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম!) আপনি কে বলুনতো!
:আমি শুভর ফেসবুক ফ্রেন্ড। এটা কি শুভর নাম্বার না?
-হ্যাঁ এটা শুভর নাম্বার। আর আপনি তার সাথেই কথা বলছেন।
:আপনি এত ভাল ভাল পোস্ট লিখেন। কিন্তু কথাবার্তা এরকম কেন?
-আপনি আমার নাম্বার পেয়েছেন কোথায়?
:আপনার আগের আইডিতে একসময় ফোন নম্বর প্রাইভেসী ফ্রেন্ডস অনলি করা ছিল বোধহয়। তখন সেভ করে রেখেছিলাম। আপনার আগের নাম Soukhin Bilas. ভুল বললাম?
-না। কে আপনি?
:খুঁজে বের করেন।
-আমি খুঁজে বের করার পাবলিক না।
:তাহলে জানবারও দরকার নেই।তবুও একটা Hints দিচ্ছি। আপনার বর্তমান আইডিতে আমি আছি।তবে আইডিটি আমার রিয়েল নামে নেই।
-বাবা মায়ের আকীকা করা নামে এত এলার্জি কেন?
:এখন কিন্তু সত্যিই মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে আমার!
-ভাল।আর কিছু বলবেন?
:না।আর হ্যাঁ,আপনি এত মেয়েদের বিরুদ্ধে লিখেন কেন?
-এমন কিছু তো লিখেছি বলে মনে পড়ছেনা!
:এই আইডিতে হয়তো লিখেননি। আগের আইডিতে লিখেছিলেন।
-আর কিছু বলবেন?
:না।আপনাকে বলেও লাভ নেই।
-এতক্ষনে বুঝতে পারার জন্যে ধন্যবাদ।
:(চুপ)
-আর কিছু বলবেন?
:না।আর কিছু বলব না। আপনার ঘুমে সমস্যা করার জন্য sorry.. গুড মর্নিং।
-গুড মর্নিং কেন?
:ভোর হতে বেশী বাকি নেই তাই।
বলেই ফোন কেটে দিলো।ভোর পাঁচটার দিকে একটা ম্যাসেজ আসলো। এবার তার আম্মুর নাম্বার থেকে নয়।তার নাম্বার থেকে "Via,ami khub asahoto hoechi apnake phone kore.facebooker apni r jar shathe kotha bollam kono mil pelam na.apnar numberta ami delete korbona.onek din por abar phone dia dekhbo apni facebooker Swokhin (বানান ভুল) hoechen kina.karon ami facebooker Soukhiner fan. Bye.."
মেয়েটা কে আমি এখনো জানিনা।হয়ত এই স্ট্যাটাসেই লাইক দিয়ে যাবে! কমেন্টও হয়তো করবে না ধরা পড়ে যাবে বলে।কারন আমার স্ট্যাটাসে কমেন্ট সংখ্যা হাতেগোনা tongue emoticon । ধরা পড়াটা খুবই স্বাভাবিক। যাই হোক,একটা ব্যাপারে আমি নিজেও খেয়াল করেছি।ফেসবুকে লগিন দেয়ার পরই আমি কেমন যেন হয়ে যাই।মানুষ তার অনুভূতি শেয়ার করে কাছের মানুষের সাথে।আমার কাছের মানুষ ফেসবুক। এটা আমি পুরোপুরি নিশ্চিত।কাছের মানুষগুলোর সাথে মনের কথা শেয়ার করে যেমন স্বস্তি আছে,তেমনি সমস্যাও আছে।কাছের মানুষ যদি কখনো দূরের মানুষ হয়ে যায় তবে সে হয়ে যায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারন। কারন সে সমস্থ দুর্বল পয়েন্টগুলো জানে।ফেসবুককে আপন করে নিলে এই আশঙ্কাটা থাকেনা।আমার তাই মনে হয়। ভাল কথা বললেও সে খুশি হয়না,তার উল্টোটা বললেও সে মন খারাপ করেনা।
লগিন করার পর যেন ভেতরের শুভটা বেরিয়ে আসে।আবার লগ আউট করার সাথে সাথে আবার ভেতরের শুভ থেকে বাস্তব শুভতে ফিরে আসি।
দুটো কখনোই এক নয়।একই চরিত্রের দুটো রুপ।একজন খুব ইমোশনাল। আরেকজন খুব রোবটিক...
মেয়েরা যে কেন রোবটের ভেতর ইমশন দিতে চায় বুঝিনা...! tongue emoticon
[অনেক আগের লিখা এটা। মজার বিষয় হচ্ছে,মেয়েটি কিছুক্ষন আগে আমাকে ফোন করেছে। যাচাই করার জন্যে যে আমি ফেসবুকের শুভ হয়েছি কিনা। মেয়েটা হতাশ হয়েছে বোধহয়। শুভ আর শুভ নেই..
একজন বাজে ছেলে হয়ে গিয়েছে... smile emoticon ]
No comments:
Post a Comment